শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২২ | ১৪ই মাঘ ১৪২৮

পানির দরে চামড়া

জাগরণ ডেস্ক:

বগুড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল সারিয়াকান্দির বোহাইল ইউনিয়নের আজম আলীর বাড়িতে চারটি গরু ও তিনটি ছাগল কোরবানি হয়েছিল। আজম জানান, চারটি গরুর চামড়া ১৬০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। আর তিনটি খাসির চামড়া ‘ফ্রি’ দিতে হয়েছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের চৌমুহনীর এক আড়তদারের প্রতিনিধি মো. আলম জানান, ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে তারা চামড়া কিনে নিচ্ছেন। কিছু লাভে সেগুলো আড়তে পাঠিয়ে দেবেন। খবর বিডি নিউজের।

ঢাকার রূপনগরের মুদি দোকানি আবুল কালাম জানান, তারা এক লাখ ১০ হাজার টাকা দামের যে গরু কেরবানি দিয়েছেন, ঈদের দিন সন্ধ্যা অবধি তার চামড়া কিনতে কেউ আসেনি। এবারের ঈদে কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে সারাদেশের চিত্র এমনই। সবাই বলছেন, এবার জলের দরে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে।

গতবার চামড়া নিয়ে যে সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছিল, তার সঙ্গে করোনাভাইরাস মহামারী যোগ হওয়ায় এবার চামড়া কিনতে মৌসুমী ক্রেতা বা ফড়িয়াদের আনাগোনা এবার তেমন দেখা যায়নি। আড়তদাররা বলে আসছিলেন, মহামারীর কারণে বিশ্ববাজারে অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় ট্যানারিগুলোতে চাহিদা কমেছে। ফলে এবার চামড়ার দাম কমে যেতে পারে। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে আরও কম দামেই কোরবানির পশুর চামড়া হাতবদল হয়েছে।

এবার ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল সরকার, যা গত বছর ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকার মধ্যে ছিল। ছাগলের চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় প্রতি বর্গফুট ১৩ টাকা।

সাধারণত ৭০ হাজার টাকা থেকে ৯০ হাজার টাকা মূল্যের যেই গরুগুলো জবাই করা হয়, তার চামড়ার আয়তন ২০ থেকে ২৫ ফুট হয়ে থাকে। আর এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকার গরুগুলোর চামড়া হয় ২৫ থেকে ৩০ বর্গফুটের মধ্যে। সবচেয়ে বড় গরুগুলোর চামড়া ৩০ বর্গফুটের চেয়ে কিছুটা বেশি হয়ে থাকে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সে হিসাবে কম দামেই চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে বগুড়ার ধুনট উপজেলার চিথুলিয়া গ্রামের রাবিন সরকারকে। তিনি বলেন, তার গরুর দাম ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। হিসাব অনুযায়ী, এই গরুর চামড়ার দর ট্যানারিতে আটশ টাকার মতো হলেও তিনি বিক্রি করেছেন ৫০০ টাকায়।

সংবাদটি আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন