রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১ | ১৩ই অগ্রহায়ণ ১৪২৮

মাস্ক পরা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন নির্দেশনা

জাগরণ ডেস্ক //

পিপিই নিয়ে দুর্নীতি হত্যাকাণ্ডের শামিল বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আদানম গেব্রিয়াসুস। জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এ ধরনের দুর্নীতি গুরুতর অপরাধ।

কারণ স্বাস্থ্যকর্মীরা যদি পিপিই ছাড়া কাজ করেন তবে সেটি তাদের জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি, সেই সঙ্গে তারা যাদের সেবা দিচ্ছেন তাদের জন্যও।

এদিকে এক প্রতিবেদনে মাস্ক পরা নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। দুই সংস্থা বলছে, ১২ বছর বয়স থেকে বড়দের মতো শিশুদেরও মাস্ক পরা উচিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। প্রাপ্তবয়স্কদের যেমন সংক্রমণের ঝুঁকি আছে, তাদের ক্ষেত্রেও এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। করোনা মহামারী থেকে বাঁচতে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো একই পরিস্থিতিতে তাদেরও অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, যেসব স্থানে সামাজিক দূরত্ব মানা যায় না, সেসব স্থানে ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী ছেলেমেয়েদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরা উচিত। এছাড়া যেখানে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর শঙ্কা থাকে সেখানে অবশ্যই তাদের মাস্ক পরা উচিত।

তবে ৬ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের মাস্ক পরার ক্ষেত্রে বড়দের তদারকি করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কারণ এ বয়সে অনেক শিশু মাস্ক পরে অস্বস্তিবোধ করতে পারে। কিন্তু যেসব স্থানে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি, সেখানে বড়দের দায়িত্ব হবে ছোটদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফ উভয়ই জানিয়েছে, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে ৫ বছর বা তার কম বয়সের শিশুদের মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

দুই সংস্থাই বলছে, অপেক্ষাকৃত ছোট শিশুদের চেয়ে তুলনামূলক বয়সে বড় শিশুরা করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তবে শিশুদের করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর বিষয়ে পরিষ্কারভাবে বুঝতে আরও তথ্যের প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে।

৫ জুন জনসম্মুখে মাস্ক পরার বিষয়ে প্রথম পরামর্শ দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। করোনার বিস্তার রোধ করতে অবশ্যই মাস্ক পরতে বলা হয়েছে। তবে এর আগে শিশুদের ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা সংস্থাটির পক্ষ থেকে জারি করা হয়নি।

বিশ্বে করোনা রোগী ২ কোটি ৩৪ লাখ ছাড়াল : বিশ্বে করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় আরও আড়াই লাখের বেশি মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই কোটি ৩৪ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, মারা গেছেন আট লাখ ৯ হাজার মানুষ। ভারতে এক দিনে ৭০ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। যা দেশটিতে দৈনিক আক্রান্তের সর্বোচ্চ রেকর্ড। দক্ষিণ কোরিয়ায়ও মার্চের পর রোববার এক দিনে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে। করোনাভাইরাস কোনো না কোনো আদলে আজীবন থাকতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন ব্রিটিশ সরকারের জরুরি পরিস্থিতিতে বৈজ্ঞানিক পরামর্শ কমিটির সদস্য স্যার মার্ক ওয়ালপোর্ট। খবর রয়টার্স, বিবিসি ও এএফপিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।

বাংলাদেশ সময় রোববার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডওমিটারসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন দুই কোটি ৩৪ লাখ ১০ হাজার ৯২০ জন। মারা গেছেন আট লাখ ৯ হাজার ১২০ জন। অবস্থা আশঙ্কাজনক ৬১ হাজার ৬৫২ জনের। সুস্থ হয়েছেন এক কোটি ৫৯ লাখ ৪৩ হাজার ৫১১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন দুই লাখ ৬১ হাজার ৮৯৮, মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৩৪৯ জনের।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী আক্রান্ত ও মৃতের দিক থেকে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ হাজার ৮৩৯ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে মারা গেছেন ৯৭৪ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্ত ৫৮ লাখ ৪২ হাজার ১৪৭ জন, মারা গেছেন এক লাখ ৮০ হাজার ১৫৬ জন। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬ হাজার ২১০ জন, মৃত্যু হয়েছে ৮২৩ জনের। এতে দেশটিতে মোট রোগীর সংখ্যা ৩৫ লাখ ৮৩ হাজার ৩৭০ জন, মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ২৫৭ জনের। বিশ্বে তৃতীয় স্থানে থাকা ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ডসংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদিন ৭০ হাজার ৬৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে মারা গেছেন ৯১৮ জন। দেশটিতে মোট রোগীর সংখ্যা ৩০ লাখ ৫০ হাজার ৩২৫ জন, মারা গেছেন ৫৬ হাজার ৮৮৩ জন। চতুর্থ স্থানে রাশিয়ায় মোট রোগীর সংখ্যা ৯ লাখ ৫৬ হাজার ৭৯৭ জন, মারা গেছেন ১৬ হাজার ৩৮৩ জন।

পঞ্চম স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকায় মোট আক্রান্ত ছয় লাখ সাত হাজার ৪৫ জন, মৃত্যু হয়েছে ১২ হাজার ৯৮৯ জনের। ষষ্ঠ স্থানে পেরুতে মোট রোগী পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার ২৩৬ জন, মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৪৫৩ জনের। সপ্তম স্থানে থাকা মেক্সিকোতে মোট আক্রান্ত পাঁচ লাখ ৫৬ হাজার ২১৬ জন, মৃত্যু হয়েছে ৬০ হাজার ২৫৪ জনের।

করোনা আজীবন থাকতে পারে : ব্রিটিশ সরকারের জরুরি পরিস্থিতিতে বৈজ্ঞানিক পরামর্শ কমিটির সদস্য স্যার মার্ক ওয়ালপোর্ট বলেছেন, করোনাভাইরাস কোনো না কোনো আদলে আজীবন থাকতে পারে। এমন ক্ষেত্রে নিয়মিত বিরতিতে মানুষজনের টিকা নেয়ার দরকার হতে পারে। তার এই মন্তব্যের এক দিন আগেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আদানম বলেছিলেন, করোনাভাইরাস দুই বছরের মধ্যে বিদায় নেবে বলে তিনি আশা করছেন। কারণ স্প্যানিশ ফ্লুর বিদায় হতে দুই বছর লেগেছিল।

বিবিসির রেডিও ফোরের ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে স্যার মার্ক বলেন, ঘন জনবসতি আর ভ্রমণের কারণে ভাইরাস খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ১৯১৮ সালে যত জনসংখ্যা ছিল, এখন বিশ্বের জনসংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। তিনি বলেন, মহামারী নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সারা বিশ্বের মানুষের জন্য টিকার ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু করোনাভাইরাস স্মলপক্সের মতো কোনো রোগ নয় যে টিকা দিলেই সেটা চলে যাবে। এটা এমন একটা ভাইরাস যা কোনো না কোনো আদলে আজীবন আমাদের সঙ্গে থেকে যাবে। আর অনেকটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে, মানুষজনকে বারবার টিকা নিতে হবে। সুতরাং ফ্লুর মতো মানুষজনকে নিয়মিত বিরতিতে টিকা নিতে হবে।

দ. কোরিয়ায় এক দিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ : দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। রোববার দেশটিতে ৩৯৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা ৭ মার্চের পর সর্বোচ্চ। দক্ষিণ কোরিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ (কেসিডিসি) বলছে, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৩৮৭ জন স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত। তাদের মধ্যে ২৯৭ জন সিউলের এবং আশপাশের এলাকার।

সংবাদটি আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন