রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১ | ১৩ই অগ্রহায়ণ ১৪২৮

করোনাকালে শিল্পী সঞ্জয় দে’র মানবতাবাদী উদ্যোগ

যুক্তরাজ্য থেকে শাহীন মিতুলি //

ইউরোপের অন্যতম প্রধান সব্যসাচী সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার ও গীতিকার সঞ্জয় দে করোনার ক্রান্তিলগ্নে আর্ত-পীড়িত মানুষ এবং দুস্থ শিল্পীদের সাহায্যার্থে শুরু করেছেন নানাবিধ মানবতাবাদী উদ্যোগ। এরই মধ্যে তা দেশ-বিদেশের হাজার হাজার দর্শকদের নজর কেড়েছে; প্রশংসা কুড়িয়েছে সাহিত্য ও সঙ্গীতপ্রেমীসহ বিভিন্ন শিল্পবোদ্ধা মহলের। এসব উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে কলকাতার জনপ্রিয় সঙ্গীত প্রযোজনা সংস্থা শ্রীনিবাস মিউজিক। লন্ডন বারা অব হ্যারোর ডেপুটি মেয়ের কাউন্সিলর গজনফর আলী এবং লন্ডনের বিখ্যাত চ্যারিটি সংস্থা স্ট্রিটলিংকের কর্মকর্তারা এক বিশেষ বার্তায় সঞ্জয় দে’র এসব উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

গত ৭ জুন সঞ্জয় দে’র সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘নিয়ম’ এর উদ্যোগে ঘূর্ণিঝড় আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে বাংলাদেশ, ভারত, আরব-আমিরাত ও ব্রিটেনের স্বনামধন্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় একটি মেগা কনসার্ট। এই কনসার্টের মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে বণ্টন করা হয়।

এছাড়াও তিনি ভারতের রাজস্থানের বারনামা জাগির নামে একটি গ্রামের লোকশিল্পীদের জন্যেও সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন। এই গ্রামের লোকশিল্পীরা মূলতঃ বিয়ে, অন্নপ্রাশন ইত্যাদি অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কোভিডের এই ক্রান্তিকালে তাদের আয়ের সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এসময় তাদের পাশে দাঁড়াবার অনন্য ভাবনা থেকেই শিল্পী সঞ্জয় দে ‘মিউজিক ফর হিউম্যানিটি” শিরোনামে তার বিবিধ সঙ্গীত উদ্যোগের মাধ্যমে রাজস্থানের লোকশিল্পীদের জন্য তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। সম্প্রতি বৃটেনে গৃহহীনদের অন্যতম প্রধান সেবা সংস্থা স্ট্রিটলিংকের জন্যও কনসার্টের মাধ্যমে তহবিল গঠন করেন তিনি।

শিল্পী সঞ্জয় দে বর্তমানে ভারতের মৃৎশিল্পী সম্প্রদায়ের জন্য তহবিল গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছেন। লকডাউনের কারণে আসন্ন পূজোয় তাদের উপার্জন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এখানেও তিনি কনসার্টের মাধ্যমে তহবিল গঠনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন।

এতোসব মানবতাবাদী উদ্যোগের পাশাপাশি থেমে নেই তার নিজের সৃজনশীল কর্মকান্ড। ‘ব্যবধান’ শীর্ষক একটি পরিবেশনা মুক্তি পায় গেলো ২৫ জুলাই। শিল্পী সঞ্জয় দে’র কথা ও সুরে ‘আর তো কোন কথা নেই বলার’ গানটিতে কন্ঠ দিয়েছেন ‘ শিল্পী সিসপিয়া ব্যানার্জি এবং সঙ্গীতায়োজনে ছিলেন কুন্দন সাহা। আসন্ন পূজো উপলক্ষে শিল্পী এরিনা মুখার্জির সাথে মুক্তি পাচ্ছে টপ্পাঙ্গের একখানা রবীন্দ্রসঙ্গীতও।

রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাবেক শিক্ষার্থী এরই মধ্যে সঙ্গীতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদানের জন্যে পেয়েছেন আর ডি বর্মন পুরষ্কার। ২০০০ সালে বাল্টিমোরে অনুষ্ঠিত সম্মানজনক বিশ্ব বাংলা সম্মেলনে সঙ্গীত পরিবেশন করার পাশাপাশি শ্রী সঞ্জয় দে ব্রিটেনে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘নিয়ম’ (NEOM – New Era of Music) নামের একটি জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন। নিয়ম ছাড়াও তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন রবিকা এবং রবি ভারতী নামের আরো দুটি সংগঠন। রবি ভারতী’র মাধ্যমে এবং নিজের একান্ত উদ্যোগে তিনি ব্রিটেনে বেড়ে ওঠা শিশুদের এবং ব্রিটিশ-এশীয় ডায়েসপরাদের সঙ্গীত শিখিয়ে যাচ্ছেন গত এক যুগেরও বেশী সময় ধরে।

সংবাদটি আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন