শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৫ই আশ্বিন ১৪৩০

লালমনিরহাটের ধরলা পাড়ে ফের বন্যা

টানা বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটের ধরলা পাড়ে চতুর্থবারের মতো আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড শিমুলবাড়ি পয়েন্টে ধরলার পানি প্রবাহ রেকর্ড করে ৩১ দশমিক ২৬ সেন্টিমিটার যা (স্বাভাবিক ৩১ দশমিক ০৯ সেন্টিমিটার) বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটের সবকটি নদ-নদীর পানি বেড়েছে। ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও তিস্তা ও সানিয়াজান বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ধরলার পানি ক্রমে বৃদ্ধি হয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সকাল ৯টার পরে কমতে শুরু করে এবং দুপুর ১২টায় বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোঘলহাট, কুলাঘাট ও বড়বাড়ি ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এসব পানিবন্দি পরিবারে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরা পড়েছেন মহাবিপাকে। পানিবন্দি এলাকায় আমন ধান ও সবজি ক্ষেত বন্যায় ডুবে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। গবাদি পশু পাখি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বন্যা কবলিত এলাকা গরু মালিকরা।

এদিকে তিস্তা নদী ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টির পানি ধীরগতিতে নেমে যাওয়ায় লালমনিরহাটের তিস্তাপাড়ের পাঁচটি উপজেলার নিম্নাঞ্চালের বেশকিছু এলাকা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তবে তিস্তাপাড়ে নদী ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের সিংগিমারী ও পাসাইটারী গ্রাম বিলীনের পর এখন ভাঙনের কবলে পড়েছে চৌরাহা গ্রাম। কয়েক দিনের ব্যবধানে গ্রামটির শতাধিক পরিবার তিস্তার কড়াল গ্রাসে বসতভিটা হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

সংবাদটি আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন