শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২২ | ১৪ই মাঘ ১৪২৮

২০২৩ সালের মধ্যে দেশের ই-কমার্স খাতের আকার হবে ৩ বিলিয়ন ডলার

২০২৩ সালের মধ্যে দেশের ই-কমার্স খাতের আকার হবে ৩ বিলিয়ন ডলার। বার্ষিক ৫০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সম্ভাবনাময় খাতটি। আর ২০২০ সালে দেশে ই-কমার্স খাতের আকার বেড়েছে ১৬৬ শতাংশ। গতকাল অনুষ্ঠিত এক ওয়েবিনারে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ই-কমার্স এবং ভোক্তা অধিকার: প্রতিবন্ধকতা ও সুপারিশ’ শীর্ষক ওয়েবিনারটির প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান।

ওয়েবিনারে মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিএসটিআইর পরিচালক (মান) নিলুফা হক এবং বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের মো. আব্দুর রউফ। ওয়েবিনারে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আরো ছিলেন ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এন কে এ মবিন, সহসভাপতি মোহাম্মদ বাশিরউদ্দিন, পরিচালক আলহাজ দ্বীন মোহাম্মদ ও এনামুল হক পাটোয়ারী।

স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ই-কমার্স খাতের আকার প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার এবং তা বার্ষিক ৫০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, কভিড-১৯ সংক্রমণ হ্রাসে সামাজিক দূরত্ব মানার কারণে প্রথাগত ব্যবসায়িক খাতসমূহ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিকাশ লাভ করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যভিত্তিক ই-কমার্স ব্যবসা। কিন্তু ই-কমার্স খাতকে টেকসই করার পাশাপাশি খাতটিকে আরো সংগঠিত করা ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে ই-কমার্সের জনপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তবে এক্ষেত্রে বেশকিছু প্রতারণার উদাহরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। যার ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে সম্প্রতি টিসিবি অনলাইনে পেঁয়াজ ক্রয়-বিক্রয় করছে, যার ফলে ভোক্তাদের ভোগান্তি লাঘব করা সম্ভব হয়েছে।

ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, এ খাতের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হতে পারে। তিনি বলেন, দেশে ফেসবুকভিত্তিক ই-কমার্সের বিস্তৃতি অত্যন্ত বেশি এবং এ খাতের উদ্যোক্তাদের স্বল্পমূল্যে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন। যার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে। ই-কমার্স খাতের বিস্তৃতির গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যদি যথাযথ নীতিমালা করা না হয় তাহলে ভোক্তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে। এক্ষেত্রে তিনি ই-কমার্স খাতের ভালো ভালো উদ্যোক্তাকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির। বেসিস সভাপতি বলেন, কভিড-১৯ মহামারীকালে ই-কমার্স প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং ঔষধি পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে এ খাতের মোট উদ্যোক্তাদের মধ্যে মাত্র ৭-৮ শতাংশ উদ্যোক্তা তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সফলতা পেয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩৬ মিলিয়ন এবং ফেসবুকভিত্তিক বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৩১২ কোটি টাকা। তবে এফ-কমার্স উদ্যোক্তাদের অধিকাংশরই ট্রেড লাইসেন্স নেই এবং এ ধরনের উদ্যোক্তাদের একটি নিবন্ধন কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হলে তাদের আর্থিক ঋণসুবিধা পাওয়ার বিষয়টি সহজতর হবে এবং তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (পেম্যান্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্ট) মোহা. হুমায়ুন কবির বলেন, এ খাতের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের (মাইক্রো মার্চেন্ট) প্রয়োজনীয় বিষয়ে সহযোগিতা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নিরলসভাবে কাজ করছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, এ খাতের নিয়মনীতি অত্যন্ত বেশি। যার বেশির ভাগই ইংরেজি ভাষায় লেখা থাকায় অধিকাংশ ভোক্তাই না বুঝে ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রমে অংশ নেয়ায় অনেক সময় প্রতারিত হন। এ অবস্থা উত্তরণে অনলাইন ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রমের শর্তাবলি সাধারণ মানুষের বোধগম্য করার লক্ষ্যে সেগুলোকে বাংলায় প্রস্তুতকরণের প্রস্তাব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানের নির্ধারিত আলোচনায় পাঠাওয়ের সভাপতি এবং সিএফও ফাহিম আহমেদ, দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোস্তাহিদুল হক, স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের এমডি ও সিইও টিনা জাবিন প্রমুখ অংশ নেন।

সংবাদটি আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন