শুক্রবার, ৭ অক্টোবর ২০২২ | ২২শে আশ্বিন ১৪২৯

গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, ভাঙনে ৩ স্কুল বিলীন

গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়েছে। ভাঙনের শিকার হয়েছে তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, করতোয়া ও তিস্তার পানি প্রতিদিনই ধীরগতিতে কমছে বলে জানিয়েছেন গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডেরর নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান।

এদিকে পানি কমতে শুরু করায় বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিদ্যালয়গুলো হলো, ফুলছড়ি উপজেলার চর কাবিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝানঝাইড় কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম কালাসোনা প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্রহ্মপুত্র’র গর্ভে চলে গেছে।

হুমকির মুখে আছে জিগাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চৌমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

ফুলছড়ি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন বাংলানিউজকে জানান, ইতোমধ্যে ভাঙনের শিকার স্কুলগুলোর টিনশেড ভবন অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, গাইবান্ধা সদরসহ মুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিবন্দি এসব মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। তারা গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি নিয়ে আত্মীয়স্বজনসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।

তাদের মধ্যে শুকনো খাবার, গবাদি পশুর খাদ্য সংকট, জ্বালানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও বিশুদ্ধ পানির চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ওই এলাকার বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠ, ভেসে গেছে শত-শত পুকুরের মাছ।

গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা একেএম ইদ্রিস আলী বাংলানিউজকে জানান, দ্বিতীয় দফা বন্যায় এ পর্যন্ত ২১০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা, শিশুখাদ্য চার লাখ টাকার, গো-খাদ্য দুই লাখ টাকার ও ৩ হাজার ৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বন্যা দুর্গত এলাকায় বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ বাংলানিউজকে জানান, বন্যা দুর্গত এলাকায় ৬১টি মেডিক্যাল দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী- ওষুধ মজুদ রয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন বাংলানিউজকে জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এছাড়া বন্যা কবলিত মানুষের জন্য সরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন