সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ২৩শে মাঘ ১৪২৯

জিয়ার রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত, ৪ জনের ব্যাপারে সুপারিশ

স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পর সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে দেওয়া ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে এ খেতাব দেওয়া হয়েছিল তাকে। সেইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি শরিফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিনের রাষ্ট্রীয় খেতাবও বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন

সংবিধান লঙ্ঘন, সংবিধানের মূলনীতি বাতিল, মুক্তিযোদ্ধা হয়েও স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন ও বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের দেশত্যাগে সহায়তা করায় মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) জামুকার ৭২তম সভায় জিয়ার রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত চার খুনির খেতাব বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জিয়াউর রহমানসহ এই পাঁচজন এবং তাদের পরিবার এখন থেকে বিশেষ রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জামুকার সভায় বঙ্গবন্ধুর হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আত্মস্বীকৃত চার খুনির খেতাব বাতিলের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। সেইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের খেতাব বাতিল করা হলে কেন জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল করা হবে না- মর্মে প্রশ্ন তোলেন জামুকার সদস্য শাজাহান খান এমপি। এ সময় তিনি তার প্রশ্নের সপক্ষে নানান যুক্তি তুলে ধরেন। পরে সভার সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রীসহ অন্য সদস্যরা শাজাহান খানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সারাবাংলাকে বলেন, ‘দেশের সংবিধান লঙ্ঘন, পরিবর্তন ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিদেশে পুনর্বাসনে সহায়তা করায় জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামুকা। এগুলো এখন যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত চার খুনির খেতাব বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। শুধু এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে নয়, খেতাবপ্রাপ্ত এরকম অনেকেই যারা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধেও সিদ্ধান্ত আসবে। এটা চলমান প্রক্রিয়া।’

সংবাদটি আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন