রবিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২২ | ৯ই মাঘ ১৪২৮

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সরব মেলা

করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। বাড়ছে ঝুঁকি। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানার কঠোরতার কথা বলা হচ্ছে বারবার। হাট-বাজার, শপিং মল থেকে যেসব জায়গায় ভিড় হয় সেখানে অনেকেই এসবের তোয়াক্কা করেন না এখনো।

সেই দিক থেকে অমর একুশে বইমেলা ব্যতিক্রম। মুখে মাস্ক নেই এমন কাউকে মেলায় প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। মেলায় প্রবেশের পরও বেশিরভাগ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বই কিনছেন। প্রতিনিয়ত মেলার তথ্যকেন্দ্র থেকে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বলা হচ্ছে। এসব নিয়েই বইমেলা এখন বেশ সরব। শুধু তাই নয় দিনে দিনে বাড়ছে বই বিক্রিও।

মঙ্গলবার বিকালে বইমেলায় প্রবেশের পর দেখা যায়, সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সরব হয়েছেন দলে দলে মানুষ। তারা প্রিয় লেখকের বই কিনছেন। অনেকে ব্যাগভর্তি বই নিয়েও বাড়ি ফিরছেন। এরই মধ্যে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে বইমেলা বন্ধ হতে পারে এমন গুঞ্জন চাউর হতে থাকে। কয়েকজন প্রকাশকের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপকালে তারা জানান, হাটবাজার, মার্কেট, শপিং মল, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন সব জায়াগায় মানুষের ভিড় হচ্ছে। কিন্তু সেখানে অনেকেই মাস্ক পরছেন না। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কাই করছে না।

সেদিক থেকে বইমেলা অনেক নিরাপদ। কারণ, মুখে মাস্ক ছাড়া কেউ মেলায় প্রবেশ করতে পারছেন না। থাকছে স্যানিটাইজ ব্যবস্থা। মেলায় প্রবেশের পরও বেশিরভাগ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন। তাই করোনার অজুহাতে বইমেলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত যদি আসে তাহলে তা সঠিক হবে না।

বইমেলা বিষয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বইমেলা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঠিকঠাক চলছে। একেবারে দেয়ালে পিঠ না ঠেকে গেলে চেষ্টা করব বইমেলা ধরে রাখতে। আমার প্রত্যাশা বইমেলা শেষ পর্যন্ত চলবে। যারা বইয়ের মূল প্রেমিক তারাই আসছেন বইমেলায়। কয়েক দিন ধরে বিক্রিও বেড়েছে মেলায়। বইমেলা বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

মেলার সার্বিক অবস্থা নিয়ে পরিচালনা কমিটির আলোচনা সভা হয়েছে। সেখানে মেলার সময় রাত ৯টার পরিবর্তে রাত ৮টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রকাশকদের অনেকের সঙ্গেই কথা বলে জানা যায়, তারা বিষয়টি আগে থেকে অবহিত ছিলেন না।

মেলায় সিনেমার শুটিং নিয়ে সমালোচনা : মঙ্গলবার বইমেলায় ‘মুখোশ’ নামে সিনেমার শুটিং হয়। কয়েকটি ক্যামেরা ও সিনেমার কলাকুশলীদের নানা আয়োজনের কারণে সেখানে ছোটখাটো শুটিং বাড়িতে পরিণত হয়। সরকারি অনুদান পাওয়া এ সিনেমাতে অভিনয় করছেন পরীমণি ও মোশারফ করিমসহ আরও অনেকে। এ ঘটনায় বিরক্তি প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন মেলায় আসা অনেকেই। মঙ্গলবার লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন সৌমিত্র শেখর, আসিফ এবং লুৎফর হাসান।

নতুন বই : এদিন নতুন বই এসেছে ১১২টি। এর মধ্যে গল্পগ্রন্থ ৮টি, উপন্যাস ১২টি, প্রবন্ধ ৮টি, কাব্যগ্রন্থ ৫০, গবেষণা ২, ছড়া-১, শিশুসাহিত্য ১, জীবনী ২, মুক্তিযুদ্ধবিষয় ১, বিজ্ঞানবিষয়ক ৪, ভ্রমণগ্রন্থ ২, ইতিহাসবিষয়ক ১টি, রাজনীতি ১টি, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক ৪টি, ধর্মীয় ১টি, অনুবাদ ১ এবং একটি সায়েন্স ফিকশনসহ অন্যান্য বিষয়ের ১২টি নতুন বই এসেছে। উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে ইকবাল খন্দকারের ভৌতিক উপন্যাস ‘লঞ্চঘাটের প্রেতাত্মা’ এবং মোশতাক আহমেদের কিশোর গোয়েন্দা ‘রেড ড্রাগন’ এনেছে কথাপ্রকাশ। সময় প্রকাশন থেকে এসেছে শান্তনু মজুমদারের প্রবন্ধগ্রন্থ ‘গণতন্ত্র ঘাটতি বিশ্ব বিশ্ব দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশ’।

অনন্যা থেকে এসেছে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর দিনলিপি ‘পরাজয় মানে না মানুষ’। অনিন্দ্য থেকে এসেছে আহমদ রফিকের প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বই পড়া : কাগজ পড়ার একান্ত ভুবন’। বিভাস থেকে এসেছে মহাদেব সাহার কাব্যগ্রন্থ ‘একুশ ও মুক্তিযুদ্ধের কবিতাসমগ্র’। যুক্ত থেকে বেরিয়েছে সনৎকুমার সাহার প্রবন্ধগ্রন্থ ‘চেনা-শোনা’। রোদেলা থেকে বেরিয়েছে সূফি মজিদের সুফি দর্শনবিষয়ক বই ‘কদমবুছির বৈধতার দলিল’। বেহলা বাংলা থেকে এসেছে এলিজা খাতুনের কাব্যগ্রন্থ ‘গহীনে দাহ’।

সংবাদটি আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন