সোমবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২১ | ২১শে অগ্রহায়ণ ১৪২৮

জামিন পেলেন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম

জামিন পেলেন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে দণ্ডবিধি ও অফিশিয়াল সিক্রেক্টস অ্যাক্টের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রবিবার (২৩ মে) সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) বাকি বিল্লাহর ভার্চুয়াল আদালত রোজিনা ইসলামের জামিনের আদেশ দেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু আদালতকে বলেন, এই মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর মামলা। এই মামলার আসামি রোজিনা ইসলাম যদি তার পাসপোর্ট আদালতে জমা দেন সে ক্ষেত্রে রোজিনার জামিনে কোনো আপত্তি নাই। পরে রোজিনা ইসলামের পক্ষ থেকে আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী জানান, রাষ্ট্রপক্ষ যে শর্ত দিয়েছেন তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

আদালত শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন ও জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য রবিবার দিন ধার্য করেন। একই সঙ্গে আদালত বলেন, গণমাধ্যম শক্তিশালী মাধ্যম। সবাই যেন দায়িত্বশীল আচরণ করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ মে) বাকি বিল্লাহর ভার্চুয়াল আদালতে সাংবাদিক রোজিনার জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন রোজিনার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এহসানুল হক সমাজি, আমিনুল গনি টিটু, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, প্রশান্ত কুমার কর্মকার ও আশরাফুল আলম। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন, আইনজীবী তাপস কুমার পাল, হেমায়েত উদ্দিন খান।

রোজিনার পক্ষে আইনি সহায়তা দেন, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) আইনজীবী মশিউর রহমান, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) মিজানুর রহমান, মহিলা পরিষদের দিপ্তী সিকদার, শাম্মী আক্তার। এ ছাড়া আইনজীবীদের মধ্যে ছিলেন সুমন কুমার রায়, মাহবুবুল হক, আবদুর রহীম।

জামিন আবেদনের শুনানির পর রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আবদুল্লাহ আবু সাংবাদিকদের জানান, এই মামলায় কিছু তথ্যউপাত্ত আদালতে জামা দেওয়া হয়েছে। তবে কী তথ্য তা তিনি বিস্তারিত জানাননি।

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে ১৭ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে হেনস্তা ও নির্যাতন করা হয়। রাত সাড়ে আটটার দিকে তাকে শাহবাগ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত পৌনে ১২টার দিকে তার বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া মোবাইল ফোনে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথির ছবি তোলা এবং আরও কিছু নথি লুকিয়ে রাখার অভিযোগে শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ডা. মো. শিব্বির আহমেদ উসমানী।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভেতরে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে যান রোজিনা ইসলাম।

শুনানিতে রোজিনা ইসলামের আইনজীবীরা বলেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, সৃজিত ও উদ্দেশ্যমূলক। জামিন পাওয়ার অধিকার তিনি সংরক্ষণ করেন। এটা তার প্রাপ্য।

শাহবাগ থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১৮ মে রোজিনা ইসলামকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ তাকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। শুনানি নিয়ে আদালত রিমান্ডের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আর জামিন আবেদনের ওপর অধিকতর শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন রাখেন। এই আদেশের পর রোজিনা ইসলামকে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে পাঠানো হয়।

সংবাদটি আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন