শুক্রবার, ৭ অক্টোবর ২০২২ | ২২শে আশ্বিন ১৪২৯

ভয়ঙ্কর রূপে ‘ইয়াশ’, ৬ ফুটের বেশি জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াশ’র প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে সারাদিন বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছিল। এটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

মঙ্গলবার (২৫ মে) রাতে ভয়ঙ্ককর রূপ ধারণ করবে সামুদ্রিক এ ঝড়টি। ঝড়ের প্রভাবে উপকূলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৬ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে কয়েক ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। উপকূল সংলগ্ন বিভিন্ন জেলার নানা স্থানে ঘরবাড়ি-রাস্তাঘাটে পানি উঠছে। বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ছে লক্ষাধিক মানুষ।

১৩ নম্বর বিশেষ বুলেটিনে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াশ’ আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫০৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকট সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, বুধবার (২৬ মে) সকালের দিকে এটি উড়িশার ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আঘাত হানবে। সে সময় ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ হবে ১৮৫ কিলোমিটান পর্যন্ত। এদিন দুপুরের দিকে উড়িশার প্যারাদ্বীপ ও পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের মাঝামাঝি বালাসোরের কোনো এলাকা দিয়ে এটি স্থলভাগে উঠে আসবে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

‘ইয়াশ’ ঘূর্ণীঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের টানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ১২০ কিলোমিটার যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণীঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুদ্ধ হয়ে রয়েছে।

এদিকে, দক্ষিণপূর্ব অঞ্চলের উপর দিয়ে ঘন্টায় ৬০-৮০ কি.মি. বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র দক্ষিণ-পূর্ব বা পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কি:মি: বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

ঘূর্ণীঝড় ও পূর্ণিমার প্রভাবে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী,চাঁদপুর ও চট্টগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৬ ফুটের বেশি উচ্চতার জোয়াওে প্লাবিত হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। প্রবল ঘূর্ণীঝড় ‘ইয়াশ’ উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আগামীকাল ২৬ মে দুপুর নাগাদ উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিবঙ্গ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

আবহাওয়ার বিশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিমবঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণীঝড় ‘ইয়াশ’ আরো উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে ও ঘণীভূত হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণীঝড় আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আজ সন্ধ্যা ৬ টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দও থেকে ৫৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দও থেকে ৫০৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দও থেকে ৩৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দও থেকে ৩৯০ কিলোমিটার দক্ণি-দক্ণিপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চাঁদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, মাদারিপুর, ঢাকা, রাজশাহী এবং টাংগাইল যশোর অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব বা পূর্ব দিক থেকে ঘন্টায় ৬০-৮০ কি.মি. বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এছাড়া দেশের অন্যত্র দক্ষিণ-পূর্ব বা পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কি:মি: বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সাথে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদী বন্দরকে ১ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারী সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সংবাদটি আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন