শুক্রবার, ৭ অক্টোবর ২০২২ | ২২শে আশ্বিন ১৪২৯

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কখনো ওয়ানডে সিরিজ জেতা হয়নি বাংলাদেশের। সেই দীর্ঘ সময়ের আক্ষেপ ঘুচল আজ। লঙ্কানদের হারিয়ে সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (২৫ মে) মিরপুর শেরে-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ সুপার লিগের তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১০৩ রানে হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

প্রথম ম্যাচে লঙ্কানদের বিপক্ষে পথম ম্যাচে ৩৩ রানে জিতেছিল তামিম বাহিনীরা। টানা দ্বিতীয় জয়ে ১ ম্যাচ হাতে রেখেই লঙ্কানদের বিপক্ষে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সিরিজ ঘরে তুললো টাইগাররা। এতে ২-০ জয়ে এগিয়ে থেকে বিশ্বকাপ সুপার লিগের শীর্ষে উঠে এলো বাংলাদেশ।

এদিন বৃষ্ট্রির কারণে ৩৮তম ওভার শেষে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। তার আগে ৯ উইকেটে ১২৬ রান তুলে হারটা স্রেফ সময়ের ব্যাপারে পরিণত করেছিল শ্রীলঙ্কা। ভারি বৃষ্টিপাত হলেও বেশিক্ষণ তা টেকেনি। বৃষ্টি থামার পর শেষ পর্যন্ত খেলা গড়িয়েছে মাঠে। তবে ডি/এল নিয়মে শ্রীলঙ্কাকে যে লক্ষ্য বেঁধে দেওয়া হয়েছিল তা অর্জন করা স্রেফ অসম্ভব। দেওয়া হয়েছিল মাত্র ২ ওভার। এই ২ ওভারে করতে হবে ১১৯ রান। অর্থাৎ ৪০ ওভারের খেলা হবে। জিততে হলে শ্রীলঙ্কার করতে হবে ২৪৫ রান। কিন্তু ওই দুই ওভারে ১৬ রান যোগ করতে পেরেছিল লঙ্কানদের শেষ ওইকেট। এতে ১০৩ রানের বিশাল জয় নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে টাইগাররা।

মিরাজ, মোস্তাফিজ, সাকিবদের বলের সামনে দাঁড়াতেই পারেই লঙ্কানরা। আজ কেউই বড় সস্কোর করতে পারেনি। ওপেনার দানুশকা গুনাথিলাকা ২৪, আরেক ওপেনার অধিনায়ক কুশাল প্যারেরা ১৪, পাথুম নিশাকানা ২০, কুশাল মেন্ডিস ১৫, আশীন বান্দারা ১৫ রান করেছেন।

বাংলাদেশের হয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোস্তাফিজুর রহমান ৩টি করে, সাকিব আল হাসান ২টি এবং শরিফুল ইসলাম ১টি উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করতে পারেনি বাংলাদেশ। ৪৮.১ ওভারে অল আউট হয়ে যায় তামিম-মুশফিকরা। তবে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরিটি ঠিকই তুলে নিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। তার সেঞ্চুরিতে ভর করেই শ্রীলঙ্কাকে ২৪৬ রান করেছিল বাংলাদেশ।

এদিন টসে জিতে আগে ব্যাটিং নিয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৫ রানের মাথায় দুই উইকেট হারায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ওভারে চামিরার প্রথম বলে ১৩ রান করে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন প্রথম ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করা ওপেনার তামিম ইকবাল। ৬ বলে ৩টি চার মারেন তামিম। একই ওভারের চতুর্থ বলে সাকিব আল হাসানও এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন শূন্য রানে।

আরেক ওপেনার লিটন দাসকে সঙ্গ দিতে নামেন মোসাদ্দেক হোসেন। কিন্তু লিটন দাস ২৫ রান করে আউট হলে নামেন মুশফিকুর রহিম। লিটন ৪২ বলে ২ চার মারেন। পরে ১০ রান করে মোসাদ্দেক হোসেনের ফেরার পর নামে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মুশি-মাহমুদউল্লাহ মিলে গড়েন ৮৭ রানের একটি জুটি। প্রথম ম্যাচে এই দুজনেই বড় একটি জুটি বেঁধেছিলেন।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৫৮ বলে ১ চার ২ ছক্কায় ৪১ রান করে ফিরলেও সেঞ্চুরি করে ফেলেন মুশফিকুর রহিম। ১২৭ বলে ১০ চারে ১২৫ রান করে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুশফিক।

পরে আফিফ হোসেন ১০ রান এবং সাইফুদ্দিন ১১ রান করে ফেরেন। ৪৮.১ ওভারে ২৪৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

লঙ্কানদের হয়ে চামিরা ও সন্দাকান ৩টি করে, ইসুরু উদানা ২টি এবং হাসারাঙ্গা ১টি উইকেট নিয়েছেন।

ম্যাচ সেরা হয়েছেন মুশফিকুর রহিম।

সংবাদটি আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন